প্রতিশ্রুতির পরও সংস্কার হয়নি ‘ভরপুর-বাঁশডর’ সড়ক, দুর্ভোগে কয়েক হাজার মানুষ
স্থানীয়দের ভাষ্য, বাউসা ইউনিয়নের ভরপুর থেকে বাঁশডর পর্যন্ত সড়কটি আশপাশের ৫-৬টি এলাকার কয়েক হাজার মানুষের একমাত্র যাতায়াতের পথ। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে সড়কটির বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। কোথাও উঠে গেছে ইটের খোয়া, কোথাও জমেছে কাদাপানি। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি এখন অনেকটা মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কের অবস্থা আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। কাদাপানি ও গর্তের কারণে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষকে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে প্রায়ই পথচারী ও যানবাহন দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগ তাদের।
শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় চলাচলে চরম সমস্যা হচ্ছে। বিশেষ করে বৃষ্টির দিনে গর্ত ও কাদাপানির কারণে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করা কঠিন হয়ে পড়ে। জনস্বার্থে দ্রুত সড়কটি পাকাকরণের দাবি জানান তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্বাচনের সময় এলেই জনপ্রতিনিধিরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সড়ক সংস্কারের নানা প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু নির্বাচন শেষ হওয়ার পর সড়কটির আর খোঁজখবর নেওয়া হয় না। ফলে বছরের পর বছর ধরে প্রতিশ্রুতি আর আশ্বাসের মধ্যেই আটকে আছে সড়কটির সংস্কার।
সমাজসেবক আবুল কাসেম তালুকদার বলেন, বাঁশডর গ্রামসহ আশপাশের ৫-৬টি এলাকার মানুষের একমাত্র যাতায়াত সড়ক এটি। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ছোট-বড় গর্ত সৃষ্টি হয়ে বর্তমানে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তিনি সড়কটি দ্রুত সংস্কারে স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন।
স্থানীয় যুবক আকরাম আক্ষেপ করে বলেন, “এই সড়কে গাড়ি দিয়ে যাতায়াত তো স্বপ্নের কথা, বর্তমানে হেঁটে চলাই দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।” তিনি আরও বলেন, সড়কের বেহাল দশার কারণে বিভিন্ন সময় বাইরের অতিথি, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধু-বান্ধব এলাকায় আসতে চাইলেও পরে আর আসতে চান না।
এ বিষয়ে বাউসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাদিকুর রহমান শিশু বলেন, সড়কটি সংস্কারের জন্য তিনি একাধিকবার উপজেলা পরিষদে কথা বলেছেন। ইতোমধ্যে প্রাক্কলন পাঠানো হয়েছে। দ্রুত সংস্কারকাজের জন্য বরাদ্দ আসবে বলে তিনি আশাবাদী।
নবীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘ভরপুর হতে বাঁশডর’ সড়কের সংস্কারের জন্য একবার টেন্ডার হয়েছিল। পরে সেটি বাতিল হয়। ইতোমধ্যে পুনরায় সংস্কারের জন্য প্রাক্কলন পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হয়ে এলে সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু হবে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, আর আশ্বাস নয়—দ্রুত বরাদ্দ দিয়ে সড়কটির সংস্কারকাজ বাস্তবায়ন করা হবে। এতে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবেন ভরপুর, বাঁশডরসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকার কয়েক হাজার মানুষ।
Advertisement
