হবিগঞ্জ-সুজাতপুর সড়কের বেহাল দশা, দুর্ভোগে লাখো মানুষ
দক্ষিণ বানিয়াচংয়ের ১১নং মক্রমপুর, ১২নং সুজাতপুর, ১৩নং মন্দরী, ১৪নং মুরাদপুর ও ১৫নং পৈলারকান্দি ইউনিয়নের মানুষ ছাড়াও কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম উপজেলার বিপুলসংখ্যক মানুষ এ সড়ক দিয়ে চলাচল করেন। উপজেলা সদরের সঙ্গে দক্ষিণ বানিয়াচংয়ের সরাসরি আর কোনো সড়ক না থাকায় এ অঞ্চলের মানুষের জন্য সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিদিন অফিস-আদালত, ব্যবসা-বাণিজ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে হাজার হাজার মানুষ এ সড়ক ব্যবহার করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় আলমবাজার থেকে হিয়ালা পর্যন্ত অংশের অবস্থা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় সাত বছর আগে আলমবাজার থেকে সুজাতপুর পর্যন্ত সড়কটি মেরামত করা হলেও এরপর আর বড় ধরনের সংস্কার হয়নি। ফলে সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
এ সড়কে প্রতিদিন শত শত সিএনজি অটোরিকশা, টমটম ও মিশুক চলাচল করে। এসব যানবাহন চালিয়ে শত শত পরিবার জীবিকা নির্বাহ করে। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে প্রায়ই যানবাহনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে মেরামত ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
সড়কের দুরবস্থায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন গর্ভবতী নারী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ রোগীরা। বড় বড় গর্ত এড়িয়ে যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দক্ষিণ বানিয়াচং দীর্ঘদিন ধরেই উন্নয়ন ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় অবহেলিত। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা না হলে বর্ষা মৌসুমে এলাকার মানুষের চলাচল আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
দক্ষিণ বানিয়াচং উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক নূরুল হুদা বলেন, “রাস্তাটি বর্তমানে ভেঙে জনগণের চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দ্রুত সংস্কার করা না হলে এ এলাকার মানুষ কার্যত গৃহবন্দী হয়ে পড়বে।”
নোয়াপাথারিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও হবিগঞ্জ জেলা যুবদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কোহিনুর আলম বলেন, সড়কটি ভেঙে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। তিনি অভিযোগ করেন, বৃষ্টির অজুহাতে সংস্কার কাজ বন্ধ রয়েছে। ইতোমধ্যে তিনি জেলা এলজিইডি প্রকৌশলীকে কাজটি দ্রুত শেষ করার জন্য তাগিদ দিয়েছেন।
জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে সিএনজি শ্রমিক ও এলাকাবাসীর আন্দোলনের মুখে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সড়কের তিন কিলোমিটার অংশ সংস্কারের জন্য টেন্ডার হয়। প্রায় আট মাস আগে কাজ শুরু হলেও আলমবাজার থেকে নোয়াপাথারিয়া পর্যন্ত মাত্র দেড় কিলোমিটার কাজ শেষ হওয়ার পর গত মার্চ মাস থেকে অজ্ঞাত কারণে কাজ বন্ধ রয়েছে।
এ বিষয়ে এলজিইডির বানিয়াচং উপজেলা প্রকৌশলী মো. মোতাহার হোসেন জানান, ঠিকাদার মহিবুল ইসলাম শাহীন বৃষ্টির কারণে বর্তমানে কাজ করতে পারছেন না। দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য এলজিইডির পক্ষ থেকে ঠিকাদারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। হবিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্যও দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য এলজিইডিকে তাগিদ দিয়েছেন।
বাকি সড়কের সংস্কার কাজের টেন্ডার হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সড়কটি ১৮ ফুট প্রশস্তকরণসহ ‘ওয়েডিনিং প্রজেক্ট’-এর আওতায় নতুন একটি প্রকল্প বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
এলাকাবাসী দ্রুত বন্ধ থাকা সংস্কারকাজ শেষ করে পুরো সড়কটি টেকসইভাবে সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।
Advertisement
