হবিগঞ্জে দুই মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত ১২৮, হাওরাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা
গত শুক্রবার ‘আগামীর সময়’কে এসব তথ্য জানান তিনি।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই মাসে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে লাখাই উপজেলায়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন ৫৯ জন। আক্রান্তদের প্রায় সবাই ঢাকা থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ফিরেছেন। হাওরবেষ্টিত এ উপজেলার প্রায় ২০ হাজার মানুষ রাজধানীতে হোটেল ব্যবসা ও অন্যান্য পেশায় কর্মরত রয়েছেন।
একই সময়ে হবিগঞ্জ সদর উপজেলায় ৫১ জন, মাধবপুরে ১৪ জন এবং চুনারুঘাটে চারজন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে আটজন এবং লাখাই ও মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন করে মুমূর্ষু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে, ঢাকা থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় মানুষ ফিরে আসায় স্থানীয়ভাবে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
হাওরবেষ্টিত বানিয়াচং উপজেলার কৃষ্ণ দাস (৪৫) গত ৮ সেপ্টেম্বর এবং আফিয়া খানম (৫৪) গত ২ আগস্ট মারা যান। দুজনই জ্বর নিয়ে ঢাকা থেকে হবিগঞ্জে ফিরেছিলেন। পরে সিলেটের রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।
জেলা সিভিল সার্জন রত্নদ্বীপ বিশ্বাস বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তিকে এডিস মশা কামড়ালে মশাটি রক্তের সঙ্গে ডেঙ্গুর ভাইরাস বহন করতে পারে। পরে ওই মশা অন্য ব্যক্তিকে কামড়ালে তার শরীরেও ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে ঢাকা থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ফেরা ব্যক্তিদের মাধ্যমে জেলার হাওরাঞ্চলে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি বলেন, ঢাকা থেকে জ্বর নিয়ে কেউ বাড়ি ফিরলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে পরীক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। আক্রান্ত ব্যক্তিকে মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত রাখতে হবে এবং মশারি ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। জেলা সদর হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য ১০ শয্যার আইসোলেশন ইউনিট প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) হবিগঞ্জ জেলা শাখার সহসভাপতি মো. বাহার উদ্দিন বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিত করলেই হবে না, মশার বিস্তার রোধেও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। নিয়মিত মশকনিধন অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি ঢাকা থেকে জেলায় ফেরা কারও জ্বর বা ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা ও চিকিৎসার আওতায় আনতে হবে।
হবিগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাবেদ ইকবাল চৌধুরী বলেন, ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা ও মশকনিধন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। প্রতি শনিবার বিশেষ কর্মসূচিও নেওয়া হচ্ছে। তবে পৌরসভার কার্যক্রমের পাশাপাশি বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে নাগরিকদেরও সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
Advertisement
