Page Nav

HIDE

Grid

GRID_STYLE

Classic Header

{fbt_classic_header}

শিরোনাম

latest

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে মাধবপুরে ভয়াবহ নদী ভাঙন

  টানা অতি বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রবল স্রোতে...

 

টানা অতি বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রবল স্রোতে নদীতীর ধসে একের পর এক বসতঘর, ফসলি জমি ও গ্রামীণ সড়কের অংশ নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। এতে নদীতীরবর্তী শতাধিক পরিবার চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। অনেকেই ঘরবাড়ি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। আবার কেউ ভাঙনের আতঙ্কে বসতঘর খুলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন। একই সঙ্গে মৌসুমি সবজি, আউশ ও আমনের বীজতলার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পানিতে তলিয়ে গিয়ে প্রায় দুই শতাধিক পুকুরের মাছ ভেসে গেছে।

উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে উপজেলার সোনাই ও কাষ্টি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বহরা, চৌমুহনী, শাহজাহানপুর, ছাতিয়াইন, বুল্লা, বাঘাসুরা এবং পৌরসভার একাংশ প্লাবিত হয়েছে। আজও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে নদীতে তীব্র স্রোতের সৃষ্টি হয়ে তীরবর্তী এলাকায় ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

ভুক্তভোগী জসিম মিয়া বলেন, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে নদী ভাঙন হলেও এবার পরিস্থিতি অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় ভয়াবহ। ইতোমধ্যে কয়েকটি গ্রামের অসংখ্য পরিবার বসতভিটা হারিয়েছে। নদীগর্ভে চলে গেছে আবাদি জমির বড় একটি অংশ। এতে মাথা গোঁজার ঠাঁই ও জীবিকার প্রধান অবলম্বন হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন অনেক কৃষক।

নদী ভাঙনের কারণে একাধিক গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। অনেক এলাকায় যান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজিব সরকার বলেন, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মৌসুমি সবজি, আউশ এবং আমনের বীজতলার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মাঠপর্যায়ে কৃষি বিভাগের কর্মীরা ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করছেন। বিস্তারিত প্রতিবেদন পাওয়ার পর ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু আসাদ ফরিদুর রহমান জানান, উপজেলার প্রায় দুই শতাধিক পুকুর পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বিপুল পরিমাণ মাছ ভেসে গেছে।

চৌমুহনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুর রহমান সোহাগ বলেন, নদী ভাঙনে একাধিক গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দ্রুত ভাঙনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা ঝুঁকিতে পড়বে।

হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য ও পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন আল রনি বলেন, হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনের সংসদ সদস্য এস. এম. ফয়সলের নির্দেশনায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীরা পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। ভাঙনরোধে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করে সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। জরুরি খাদ্য সহায়তাও বিতরণ করা হয়েছে